দেশ ও জাতির কল্যানে

ইহুদি মূলত একটি জাতি বা ধর্মীয় জনগোষ্ঠী যারা বনী - ইস্রায়েল জাতির অন্তর্গত এবং জাতিগতভাবে ইহুদি ধর্মের অনুসারী। ইব্রাহীমের...

ইহুদি মূলত একটি জাতি বা ধর্মীয় জনগোষ্ঠী যারা বনী-ইস্রায়েল জাতির অন্তর্গত এবং জাতিগতভাবে ইহুদি ধর্মের অনুসারী। ইব্রাহীমের পুত্র ইসহাক, তার পুত্র ইয়াকুব ওরফে ইসরাইল (ইস্রাঈল বা ইস্রায়েল) এর বংশধরগণ বনী ইসরাঈল নামে পরিচিত। ইয়াকুবের বারো পুত্রের নামে বনী-ইস্রায়েলের বারোটি গোষ্ঠীর জন্ম হয় যার মধ্যে ইয়াহুদা' ছেলেমেয়েরা ইহুদি নামে পরিচিত।

যদিও ধর্মের প্রবর্তক মুসা কিন্তু ইহুদিরা বলেন ধর্মের প্রবর্তক আব্রাহাম ইহুদি ধর্মের বয়স প্রায় ৪০০০ বছর। ইহুদীদের ধর্মযাজককেরাব্বি' (গুরু) বলা হয়।

কেন ইহুদিরা এত সফল

কেন ইহুদিরা এত সফল?

ইহুদি ধর্মের মূল শিক্ষা প্রায় সবসময়ই একেশ্বরবাদকে করে আবর্তিত হয়েছে। ইহুদিদের মধ্যে অনেক শ্রেণী-উপশ্রেণী থাকলেও এই একটি বিষয়ে কারও মধ্যে দ্বিমত নেই। সবাই এক বাক্যে কেবল এক ঈশ্বরকে মেনে নেয়। আমাদের বাংলাদেশে একটিও ইহুদি নেই। কিছু খ্রিষ্টান আছেন বটে, তবে সেটাও সংখ্যায় খুবই কম। কাজেই আমাদেরকে যখন কেউ বলে, "ইহুদি খ্রিষ্টানরা ষড়যন্ত্র করে আমাদের মুসলমানদের দাবিয়ে রেখেছে," সেই সাথে ওরা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে বাস্তবেই বিশ্বের নেতৃত্ব এখন ইহুদি-খ্রিষ্টানদের হাতেই।

এবং বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে সাত বিলিয়ন মানুষের পৃথিবীতে মাত্র চৌদ্দ মিলিয়ন ইহুদি, বিশ্বের আর অন্যান্য যেকোন জাতির তুলনায় যারা সংখ্যায় অতি নগন্য, অথচ তারাই এই দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে আছে। তারপরে আমরা দেখি আমাদের অতীতের ইতিহাস। এর ফলে কিছু চিন্তাভাবনা না করেই ধরে নেই, "হুজুর যা বলেছেন তাই সত্য, আমাদের এই দুরবস্থার পেছনে দায়ী শুধু ইহুদি নাসারা ষড়যন্ত্র!"

 ছোটবেলায় যখন করার কিছুই ছিল না তখন স্টারপ্লাসে একতা কাপুরের সিরিয়াল দেখতাম। তখন দেখতাম বিরানি খান্দান হোক কিংবা আগারওয়াল খান্দান কিংবা বাসু খান্দান - সব খান্দানকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে কেউ না কেউ লিপ্ত থাকতো। আমাদেরও ভাবখানা এমনই, যেন ইহুদি নাসারারা আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে করতেই নিজেদের দিন রাত কাটিয়ে দেয়। ওদের আর কোনই কাজ নেই। 

অথচ বাস্তবতা অতি সহজ সরল। তুলে ধরছি। যদি ভুল পান, তাহলে প্রমান করেন। যদিও আমি নিশ্চিত কোন ভুল পাবেন না। কারন আমি আউল ফাউল অসত্য বিষয় নিয়ে লেখালেখি করতে পছন্দ করি না।

প্রথমত, ইহুদিদের এই চরম সাফল্যের পেছনে তিনটি প্রধান কারন আছে। প্রথমটি, শিক্ষা। শিক্ষার ব্যাপারে ওরা আপোষহীন। তিনবছর বয়স থেকেই একটা ইহুদি শিশুকে ওদের আলিফ বা তা সা শেখানো শুরু হয়ে যায়। শেখানো হয় ইহুদি হালাকা (দ্বীনি শিক্ষা), ইহুদি ধর্মের আইন কানুন, ধর্মীয় নীতি ইত্যাদি। ওদের ধর্ম সম্পর্কে জানতে গেলে বিস্মিত হয়ে যাবেন ইসলামের সাথে মিল দেখে। একদিন ওদের কিছু আচার আচরণ রীতি নীতি নিয়ে আলাদা পোস্ট দিব। আপাতত ওদের সাফল্যের রহস্য ফাঁস করা যাক। তাওদের প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শুরুই হয় ধর্মীয় শিক্ষার মধ্য দিয়ে। একই সাথে চলে সাধারণ শিক্ষা। যে কারনে আমরা দেখতে পাই, জাতিগতভাবে ইহুদিদের একষট্টি ভাগেরও বেশি ছেলেমেয়ে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত। বিশ্বের অন্যান্য জাতির মধ্যে যে সংখ্যা মাত্র চৌদ্দভাগ বা তারও কম। উচ্চশিক্ষার (পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন) হারের দিক দিয়ে বিশ্বের সব জাতির তুলনায় মুসলিম এবং হিন্দুরাই সবচেয়ে নিচে অবস্থান করছে। এখন আপনারাই বলেন, এই জাতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার প্রয়োজন আছে? এই ধরণের উক্তি করা, এই ধরণের উক্তি বিশ্বাস করাটাইতো প্রমান করে আমাদের শিক্ষাদীক্ষার অবস্থা কতটা করুন। 

যাই হোক, ইহুদিদের "শিক্ষা" ইহুদিদের ধর্মেরই একটি অঙ্গ। ওদের শরিয়ার নিয়ম হচ্ছে, একজন পিতাকে অবশ্যই তাঁর পুত্রকে এমনভাবে শিক্ষিত করতে হবে যেন সে নিজের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারে। একে ওরা "ট্রেড" বলে, যার মানে "চাকরি/কাজ।" সেটা ডাক্তার বানাতে পারেন, বিজ্ঞানী বানাতে পারেন, ব্যবসায়ীও বানাতে পারেন। এটিই ওদের সফলতার দ্বিতীয় প্রধান কারন। যে যার জীবিকার ব্যপারে শৈশব থেকেই শিক্ষিত হয়ে গড়ে উঠে। 

এখন আমরা আমাদের দিকে একটু তাকাই। যেহেতু আমাদের তিন ধর্মেরই আল্লাহ/ঈশ্বর/গড এক, কাজেই নির্দেশও একই হবার কথা, নাকি? তা কুরআনের প্রথম নাযিলকৃত বাণীর মধ্য দিয়ে আল্লাহ সেই নির্দেশনাই দিয়েছেন। "পড়!" ভাল করে লক্ষ্য করুন, প্রথম নাযিলকৃত আয়াতগুলোর মধ্যে আল্লাহ দুইবার পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একটি, যা আল্লাহ শিখাবেন, মানে কুরআনের শিক্ষা। এবং দ্বিতীয়টি কলমের মাধ্যমে যে শিক্ষা প্রচার হয়েছে, মানে সাধারণ বিদ্যা। অতি সহজ সরল নির্দেশ। 

মুসলমান হয়ে জন্মালে অবশ্যই পড়ালেখা করতে হবে! কিন্তু না, তুই তারপরেও তোর প্রভুর নির্দেশ অমান্য করে পড়ালেখা বাদ দিয়ে মূর্খের কথা শুনে মেনে নিজেতো ডুবছি, সাথে গোটা জাতিকেও ডুবাচ্ছি। আমাদের মূর্খতা কোন পর্যায়ে গেছে সেটা সামান্য মুখ খুললেই বেরিয়ে আসে। "নীল আর্মস্ট্রং চাঁদে গিয়ে আজান শুনেছিলেন" "ঈমানদারদের করোনা হবেনা" "মাস্ক পরা লাগবে না" "করোনা টিকা নিলে ঈমান ধ্বংস হয়ে যাবে" ইত্যাদি ইত্যাদি যাবতীয় কথাবার্তা আমাদের তথাকথিত "আলেমদের" মুখ থেকেই বেরিয়েছে। 

আমাদের ধ্বংসের পেছনে ইহুদি নাসারা ষড়যন্ত্রের কিছু নেই। ওরা ওদের প্রভুর নির্দেশ মানছে, আমরা মানছি না, এই যা। ভাল করে লক্ষ্য করুন, মিথ্যা না বলা, ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা, বর্ণবাদবিরোধী কার্যক্রম, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ইত্যাদি ইত্যাদি সবই কুরআনের নির্দেশ। একই নির্দেশ তাওরাতেও আছে, বাইবেলেও আছে। এখন বিশ্বের দিকে চোখ ফেরান। কারা মানছে আর কারা মানছে না? "আমি মুসলিম" বললেই আমি মুসলমান হয়ে গেলাম? অন্যের দিকে দোষ চাপানোর আগে চিন্তা ভাবনা করতে থাকেন।

এখন আসা যাক ওদের সফলতার তৃতীয় শেষ কারনে। সেটি হচ্ছে ঐক্য, আর বিজনেসের ভাষায় বলতে হলে নেটওয়ার্কিং। দুই হাজার বছরের বেশি সময় ধরে ওদের কোন নিজস্ব দেশ নেই, গোটা বিশ্বেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেছে ওরা। তারপরেও এক ইহুদি আরেক ইহুদিকে ভাইয়ের মতন ভালবাসে। নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রেখেছে বছরের পর বছর। শতাব্দীর পর শতাব্দী। ওদের নেটওয়ার্ক এতটাই শক্তিশালী যে ইউরোপের ইহুদীর সাথে যোগাযোগ আছে আমেরিকান ইহুদীর, এবং সাউথ আমেরিকান ইহুদীর, এবং আরব ইহুদীর। এইটা ফেসবুক পূর্ববর্তী যুগের কথা। যখন যোগাযোগের মাধ্যম ছিল চিঠিপত্র। ওরা ঠিকই যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করেনি। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে কোন ইহুদি কোন নতুন দেশে গেলে ঠিকই খুঁজে অন্যান্য ইহুদিদের বের করে ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপন করে। ইহুদিরাই প্রথম জাতি যারা গ্লোবাল নেটওয়ার্কিং সৃষ্টি করেছে।

এখন দয়া করে একটু নিজেদের আল্লাহ এবং নবীর নির্দেশগুলির কথা স্মরণ করুন। বদরের এবং ওহুদের যুদ্ধে আল্লাহ হাতে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন একতাবদ্ধ থাকলে কি হয় এবং বিচ্ছিন্ন হলে কি হয়। তারপরেও আমাদের আক্কেল আসেনাই, আক্কেল এখনও আসেনা। ভবিষ্যতেও আসবে না।

ইহুদি ধর্মানুযায়ী, এক ইহুদি আরেক ইহুদীর দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত। যেকারনে পৃথিবীতে একটাও গৃহহীন বা ফকির ইহুদীর দেখা আপনি পাবেন না। ওরা ঠিকই একজন আরেকজনকে টেনে তুলে আনে। শুনেছি নিউইয়র্কে ইহুদিদের যাকাত নাকি এইভাবে দেয়া হয় যে সমস্ত কমিউনিটির যাকাত এক জায়গায় সংগ্রহ করা হয়। যে নিঃস্ব, যার যাকাতের প্রয়োজন হয়, তাঁকে বিরাট অংকের টাকা দিয়ে দেয়া হয়। এর ফলে রাতারাতি সে মিলিওনেয়ার হয়ে যায়, এবং পরের বছরেই সে নিজেই যাকাত দিয়ে অন্যকে উঠিয়ে দেয়। 

মুসলিমদেরও একই নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন। আমাদের দৌড় "যাকাতের কাপড়" হিসেবে সস্তা ফালতু ত্যানা বিলি করা পর্যন্তই। 

মুসলিমদের মতই ইহুদিদেরও সুদ খাওয়া হারাম। তবে ইহুদিরা সেই নিয়ম শুধু নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছে। এর মানে হচ্ছে, এক ইহুদি আরেক ইহুদিকে ঋণ দিলে সুদ নিতে পারবে না। ওরা কট্টরভাবে এই নিয়ম মেনে চলে। আর আমাদের অবস্থা? হাহাহা। ব্যাংকের কথা নাই বা বললাম। আপনি সুদ ছাড়া ঋণ দেন, আপন আত্মীয়কেই দেন। মেরে দিবে। সততা বলে একটা বস্তু যে আছে, সেটা আমরা জানিই না। আর আমরা দাবি করি সব ইহুদি নাসারা ষড়যন্ত্র

নেটওয়ার্কিং বিষয়ে ইহুদিদের বাস্তব উদাহরণ দেই। হলোকাস্টের পরে আমেরিকার নিউ জার্সিতে আশ্রয় নেয়া একদল ইহুদিকে তাঁদের কমিউনিটির নেতা (রেবাই) ঘোষণা/নির্দেশ দেন প্রতিটা পরিবার যেন আলাদা আলাদা জীবিকা বেছে নেন। ফলে কেউ নাপিত হয়ে গেলেন, কেউ হলেন মুচি, কেউ ডাক্তার, কেউ দোকানদার, কেউ বাবুর্চি। এবং ওরা নিজেরাই নিজেদের ব্যবসায়ে একেকজন কাস্টমার হয়ে গেলেন। একে অন্যের উপর নির্ভরশীল, এবং কেউই অন্য কোথাও যান না। আমি যদি ইহুদি একাউন্ট্যান্ট হই, তবে একাউন্টিং সম্পর্কিত যাবতীয় সমস্যা নিয়ে অন্যান্য ইহুদিরা আমার কাছেই আসবেন, এবং আমি অসুস্থ হলে কেবল ইহুদি ডাক্তারের কাছেই যাব, খেতে হলে কেবল ইহুদি রেস্টুরেন্টেই যাব, এবং চুল কাটতে হলে ইহুদি সেলুনে। সেই সাথে বাইরের কাস্টমারতো আছেই। এর ফলে যা ঘটছে তা হচ্ছে, বাইরের কমিউনিটি থেকে ইহুদিদের কাছে টাকা আসছে ঠিকই, কিন্তু ওদের কমিউনিটি থেকে সেই টাকা সহজে বেরুচ্ছে না। এবং মাত্র কয়েক বছরেই এই কমিউনিটি ধনী হয়ে গেল। একই ঘটনা গোটা বিশ্বজুড়ে যেখানে যেখানে ইহুদি আছে, সব জায়গাতেই ঘটছে। 

আর আমাদের অবস্থা? বাঙালি দোকানে পেঁয়াজের দাম পাউন্ডে দশ পয়সা বেশি, আমরা চলে যাই ইন্ডিয়ান দোকানে। আর পহেলা বৈশাখ বা অন্যান্য যেকোন প্রোগ্রামে স্পন্সর প্রয়োজন হলে এই বাঙালি ব্যবসায়ীদের কাছেই গিয়ে নির্লজ্জের মতন হাত পাতি। ইন্ডিয়ানরা স্বাভাবিকভাবেই আমাদের বৈশাখ টইশাখ বা অন্য কোন অনুষ্ঠানেই পয়সা খরচের আগ্রহ দেখায় না। আর ওরা ওদের বাজার ওদের দোকান ছাড়া করেও না। ফলে আমাদের পয়সা ওদের পকেটে যাচ্ছে ঠিকই, আমাদের কাছে আসছে না। আমাদের কমিউনিটির পয়সা আমাদের মাঝে না রেখে আমরা ইন্ডিয়ান, চাইনিজ, আমেরিকানদের দিয়ে দিচ্ছি। বাঙালি বাদ দিয়ে মুসলিমদের কথা চিন্তা করলেও ঘটনা একই ঘটছে। ইসমাইলি (আগাখানি) কমিউনিটি ছাড়া আর কোন মুসলিমদের মাঝেই এই ঐক্য দেখা যায় না। যে কারনে ইসমাইলিদের সবসময়েই দেখবেন ধনী, পয়সাওয়ালা। ফকির মিসকিন যা পাবেন সবই "সুন্নি" মুসলমান। আর আমরা আউরাই "ষড়যন্ত্র থিওরি!" 

তাহলে এখন বুঝলেনতো, কেন ইহুদিরা এত সফল? . শিক্ষা . চাকরি/কাজ এবং . ঐক্য। সেই সাথে ওরা ওদের ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলে। কাউকে ঠকায় না, কাস্টমারকে খাসির মাংস বলে কুকুরের মাংস খাওয়ায় না, ঈদের সময়ে বখশিশের নামে জোর করে টাকা আদায় করেনা, ঘুষ দুর্নীতি করেনা, ভাংতি পাঁচ টাকার বদলে লজেন্স ধরিয়ে দেয়না। এই বিষয়গুলোতে ফোকাস করুন, আপনিও সফল হবেন।

সর্বাধিক জনবহুল মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটি ইন্দোনেশিয়া, বিশ্বের ১২.৭% মুসলমান এ দেশে বসবাস করে, এর পরে পাকিস্তানে (১১.০%), বাংলাদেশে (৯.২%)...

মুসলিম নিরীহ হওয়ার করুন বাস্তবতা

সর্বাধিক জনবহুল মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটি ইন্দোনেশিয়া, বিশ্বের ১২.৭% মুসলমান এ দেশে বসবাস করে, এর পরে পাকিস্তানে (১১.০%), বাংলাদেশে (৯.২%) এবং মিশরে (৪.৯%) রয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০% মুসলমান মধ্য প্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকাতে বসবাস করে।

বড় সংখ্যালঘু হিসেবে ভারত, চীন, রাশিয়া, ইথিওপিয়া, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপের কিছু অংশেও দেখা যায়। মোট জনসংখ্যার অনুপাত হিসাবে স্ব-বর্ণিত মুসলমানদের সর্বোচ্চ অনুপাতের দেশটি হল মরক্কো। ধর্মান্তরিত এবং অভিবাসী সম্প্রদায়গুলি বিশ্বের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে রয়েছে। ৭৫-৯০% এরও বেশি মুসলমান হলেন সুন্নি, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বৃহত্তম সম্প্রদায় শিয়া এবং আহমদিয়া যথাক্রমে ১০-২০%, এবং ১% করে। তবে পাকিস্তান, বাংলাদেশসহ অধিকাংশ মুসলমান প্রধান দেশে আহমদিয়াদের মুসলামন হিসেবে গন্য করা হয় না।

বিশ্বজনসংখ্যা রিপোর্ট ২০১৯ অনুযায়ী, পৃথিবীর মোট জনসংখ্যা ৭৭১.৫০ কোটি। এর মধ্যে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ২০০ কোটি।

মুসলিম নিরীহ হওয়ার করুন বাস্তবতা

একজন ইহুদি যুবকের মেসেজ!

আমি একজন ইহুদি, এতে আমি গর্বিত। কেননা দুনিয়ায় আজ আমাদেরই রাজত্ব। জিহাদে তোমাদের সাথে পেরে উঠতে না পেরে আমরা কি করেছি জান?? খুব সহজে তোমাদের যুবতিদের থেকে পর্দা উঠিয়ে দিয়েছি। কোরআনের শিক্ষা থেকে তোমাদের সরিয়ে দিয়েছি। তোমাদের কাছে আমাদের পোশাক পাঠিয়ে দিয়েছি, আমাদের সংস্কৃতি পাঠিয়ে দিয়েছি, আমাদের সভ্যতা রপ্তানি করেছি।

যদি তোমাদের শপিংমলগুলোর দিকে তাকাও। কি দেখতে পাচ্ছ?? সব উলঙ্গ পোশাকের মেলা। তাই না? মজার ব্যপার হল, তোমরা বড় সহজে তা গ্রহণ করে নিয়েছ। তোমরা কি জান না?? লুত সম্প্রদায়ের এই হাল ছিল?? কত নির্বোধ তোমরা!! হাহাহা।

তোমরা শ্লোগান দেও, ইহুদিরা আমাদের পবিত্র ভূমি ছিনিয়ে নিয়েছে, আমাদের প্রথম কিবলা দখল করে রেখেছে, কোরআন সুন্নাহকে শেষ করে দিচ্ছে, কিন্তু কই?? কি করেছ তোমরা?? কিছুই করতে পারনি। পারবেও না। হাহাহা।

দৃষ্টি মেলে তাকাও, রাস্তায় রাস্তায় তোমাদের যুবতিরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। আহ ! কি খুশির কথা ! তোমাদের অবস্থা সূচনীয়। তোমরা মুসলমানরা শেষ হয়ে গেছ। প্রভূ আমাদের সহায় হোন। তোমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আমরা বদলে দিয়েছি। সেখানে ইসলাম বলতে কিছুই নেই। আছে কিছু বিকৃত মতবাদ। টেলিভিশনে দিয়েছি সব নিচু মানষিকতার প্রোগ্রামস। তোমাদের এখন চুপচাপ থেকে আমাদের বাতলানো পথে চলাই ভাল। যদি বাঁচতে চাও। আর দেখে যাও আমাদের প্রোগ্রামগুলো।

আমরা তোমাদের যুবকদের মগজকে নষ্ট করে দিয়েছি। এক সময় তোমরা বড় সম্মানী জাতি ছিলে। এখন আমরা সম্মানী। তোমাদের যুবকরা আমাদের হাতের দিকে তাকিয়ে থাকে। তোমরা এখন চাকর জাতি। আমরাই তোমাদের এখন পরিচালনা করি।

তোমাদের জাতীয় ভাষাকে আমরা বদলে দিয়েছি। যে ভাষায় কোরআন, যে ভাষা স্বর্গের, যে ভাষা তোমাদের নবীর। এখন তোমরা আমাদের ভাষা শিখে, আমাদের ভাষায় (হাই, হ্যালো, মার্সি ইত্যাদি) কথা বলতে পেরে গর্ববোধ কর। এখন তোমরা আরবি ভাষাকে অহেতুক মনে কর। হাহাহা।

তোমরা একতাবদ্ধ থাকো সেটা আমাদের পছন্দ হয়নি। তাই তোমাদের মসজিদে মসজিদে বিরোধী ফিরকা তৈরি করে দিয়েছি। এখন তোমরা মুসলমান মুসলমানের সাথেই লড়ছ। আমরা তোমাদের দ্বীনকে বড় গভীরভাবে অধ্যায়ন করেছি এবং ছোট ছোট মাসআলা দিয়ে তোমাদের মধ্যে ফিরকা তৈরি করেছি। তোমরা এখন সেই আগুনেই পোড়ে মরছ। এখন তোমাদের বাচ্চারা সিরিয়াল দেখে দেখে বড় হয়। আর তোমরা তাদেরকে শান্ত রাখতে সিরিয়ালে মত্ত রাখ আর নিজেরা ডুবে থাকো অন্য সিরিয়ালে। হাহা।

অধ্যায়ন থেকে তোমাদের দূরে রাখতে আমরা বিভিন্ন ধরনের গেমস আবিষ্কার করেছি। যাতে তোমরা গেমসে ব্যস্ত থেকে কোরআনের জ্ঞানার্জন করতে না পার। কোরআনকে ভুলে যাও, তোমাদের আলেমদের ভুলে যাও, মুসলিম বিজ্ঞানীদের ভুলে যাও।

তোমাদের নতুন প্রজন্ম এমন প্রজন্ম, যারা সত্য বলতে ভয় পায়, সত্য না বলাকে হেকমত মনে করে। আমরা তোমাদেরকে এমন এক মিডিয়া দিয়েছি যাতে সারাদিন পড়ে থাকা যায় ও নামাজ, কোরান থেকে দুরে রাখা যায়। এটা আমাদেরই সফলতা। হাহাহা।

আমরা ইহুদি জাতি এই কথার উপর গর্ব করি যে, আমরা সংখ্যায় অতি নগণ্য হয়েও তোমাদেরকে আজ তরকারির ন্যায় খরিদ করে নিয়েছি। আর এতে তোমরা মোটেও চিন্তিত নও। বরং আমাদের অধিনে কাজ করতে পেরে তোমরা গর্ববোধ কর। প্রভূ আমাদের কৃপা করুন। যাতে একজন মুসলিমও না থাকে।

দেরিতে বিবাহ শতাব্দীর এক শ্রেষ্ঠ ষড়যন্ত্র!!

একটি শিশু জন্ম নেয় পরিবারেই আর তাই পরিবারই হয়ে ওঠে শিশুটির সবচেয়ে আপন ভুবন। প্রথম শিক্ষা লাভের পাঠশালা। পরিবারের সদস্যরাই হয়ে ওঠে শিশুর সবচে...

প্রান হীন সভ্যতার মুখোমুখি বাবা ছেলে

একটি শিশু জন্ম নেয় পরিবারেই আর তাই পরিবারই হয়ে ওঠে শিশুটির সবচেয়ে আপন ভুবন। প্রথম শিক্ষা লাভের পাঠশালা। পরিবারের সদস্যরাই হয়ে ওঠে শিশুর সবচেয়ে আপনজন। পাশাপাশি বলা যায় শিশুর প্রথম ও সবচেয়ে বড় শিক্ষকও হন শিশুটির  বাবা ও মা। 

সমাজে প্রচলিত আছে একজন নারী গর্ভবতী হওয়ার সাথে সাথে “মা” হয়ে যায়, আর একজন পুরুষ বাচ্চা কোলে নেওয়ার পর “বাবা” হন। একজন মায়ের তার অনাগত শিশুর জন্য স্নেহ ভালোবাসার কমতি থাকে না, অপরদিকে একজন বাবা তার শিশুটিকে কত সুন্দর করে  বড় করবে সেই চেষ্টায় ব্যস্ত থাকে। একটি শিশুকে বড় করার দায়িত্ব শুধু একা মার নয়, বাবার ওপরেও এই দায়িত্ব বর্তায়। বলা হয় ছেলেরা মায়ের সাথে আর মেয়েরা বাবার সাথে বেশি ঘনিষ্ট হয়ে থাকে। কিন্তু কিছু বিষয় আছে যা প্রতিটি বাবার উচিত তার ছেলে সন্তানকে শেখানো। এ বিষয়গুলো তার ছেলেকে একজন ভাল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করবে।

আমার বাবা আমার বাসায় হঠাৎ করেই হাজির। আমি বেশ বিব্রত বোধ করলাম। বাসা ভর্তি মেহমান। এর ভিতরেই বাবা একটা পুরোনো, ময়লা পাঞ্জাবি পরে এসেছে। পাঞ্জাবির এক জায়গায় আবার সেলাই করা। সম্ভবত মা যত্ন করে সেলাই করে দিয়েছে। 

বাবা এই দিয়ে সম্ভবত তিনবার আমার বাড়িতে এসেছে । আমি বাবাকে স্টোর রুমে নিয়ে বসালাম। তারপর বেশ চাপা রাগের স্বরে বললাম,

- যখন তখন আসার মানে কি ? আমি কোন সাহায্য সহযোগিতা করতে পারবো না । এ মাসেই আমার একটা বিদেশ টুর আছে। বেশ কয়েক লাখ টাকা ওখানে খরচ হবে ।

বাবা বেশ অবাক হয়ে বললো, 

- তোমার কাছে তো কোনদিন সাহায্য চাইনি বাবা !!!

তা অবশ্য ঠিক । কিন্তু যখন তখন বাড়িতে আসলে যে আমার প্রেস্টিজ নষ্ট হয়, তা যে কেন এই অশিক্ষিত লোকগুলো বুঝে না । না পারি সইতে, না পারি কইতে। তাই বেশ ঝাঝের সাথেই বললাম, 

- সাহায্য না লাগলে, খামোখা আসছো কেন ?

- তোমার মা আজ সকালে মারা গেছে । আছরবাদ দাফন হবে । মরার আগে তোমাকে খুব দেখার ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু তুমি ব্যস্ত মানুষ । অসুস্থ মাকে দেখতে যাওয়ার সময় ছিল না তোমার । এখানে এনে যে দেখিয়ে নিয়ে যাবো, তাতে আবার তোমার সম্মান নষ্ট হয়। তাই মরার আগে তোমাকে আর দেখতে পারলো না । যদি তার জানাজাতে যেতে, তাহলে তার আত্মা একটু শান্তি পেতো।

বাবা কি আমাকে ইচ্ছা করে কটু কথা শোনাচ্ছে? বয়স হইলে মানুষ তো মারা যাবেই। এতে এত আপসেট হওয়ার কি আছে? আজ বাসায় এত মেহমান, যাবো কি করে? সোমার জন্মদিন উপলক্ষে সোমার আত্মীয় স্বজন এবং বন্ধু বান্ধবীরা এসেছে । কিন্তু গ্রামে না গেলে, গ্রামের মানুষ জনও কথা শোনাবে । গ্রামের মানুষ জন তো গীবত ছাড়া আর কিছুই পারে না । তাই বাবাকে নিয়ে রওনা দিলাম বাড়ির উদ্দেশ্যে ।

আমাদের বাড়ি শহরতলীতে, গ্রামই বলা যায়। আমার নিজস্ব গাড়িতেই গিয়েছিলাম । যখন পৌঁছালাম, তখন লাশ অলরেডি জানাজার জন্য মসজিদে নেওয়া হয়েছে । আমাকে দেখে, সবাই সরে দাঁড়ালো। মাতবর চাচা বললো,

- রায়হান বাবা, শেষ বারের মত মায়ের মুখখান দেখবা নাকি ?

আমি বললাম, 

- থাক, দরকার নেই। জানাজা শুরু করুণ।

মাকে কবর দিয়ে এসে ঘরে এসে বসলাম । কেমন যেন একটু মন খারাপ মন খারাপ লাগছে। হয়তো, আত্মীয় স্বজন, প্রতিবেশীরা কান্নাকাটি করছে, সেজন্য । কান্নাকাটি একটা ছোঁয়াচে রোগ। একজনের থেকে আর একজনের ভিতর সংক্রামিত হয়। গ্রামের কেউ কেউ সুর করে কাঁদছে - "ওরে রায়হান, তুই শেষ পর্যন্ত আইলি, কিন্তু তোর মা তোরে একটু দেখতি পারলো না ।"

বাবা ঘরে ঢুকে সবাইকে অনুরোধ করলো, পাশের ঘরে যাওয়ার জন্য । সবাই চলে গেলে, বাবা একটা নতুন টেবিল ফ্যান বের করে আমার সামনে চালু করে দিল। অনেকক্ষণ পরে একটু আরাম লাগলো। আসলেই গরমে খুব কষ্ট পাচ্ছিলাম । দেখি বাবাও ঘেমে গেছে। ফ্যানটা মুভ করে দিলাম । কিন্তু বাবা আবার আমার দিকে ফিক্সড করে দিলো। বললো,

- এ ফ্যানের বাতাসতো আমার গায়ে লাগাতে পারবো না বাবা । তোমার মা যখন খুব অসুস্থ ছিল, গরমে খুব কষ্ট পেতো। কিন্তু এই ফ্যানটা চালু করতে দিতো না । বলতো, " থাক, নষ্ট হয়ে যাবে । খোকা আসলেই ফ্যানটা চালাবো।"

বাবা একটু থেমে আবার বলতে লাগলো, 

- গতবার তুমি যখন আইছিলে, তখন গরম বলে বাড়িতে দু ঘন্টাও বসতে পারোনি। তাই তোমার মা তোমার জন্য এই ফ্যানটা কিনাইছে। যাতে বাড়ি আসলে, তোমার কষ্ট না হয়।

আমার মার জন্য হঠাৎ করেই খারাপ লাগতে শুরু করলো। বাবা মায়ের পুরোনো বাক্সটা খুললো। একটা পুটলা বের করে নিয়ে আসলো । আর একটা খেলনা গাড়ির প্যাকেট। আমার হাতে দিয়ে বললো, 

- তোমার বাসায় তোমার মা জীবনে একবার গিয়েছিল। তুমি বলেছিলে, তোমার ব্যবসার অবস্থা খুব খারাপ, অনেক টাকা লাগবে। সেই থেকে তোমার মা আমার সাথে সারাক্ষণ ঘ্যান ঘ্যান করে। আমাদের দক্ষিণ মাঠের তিন বিঘা জমি বিক্রি করে দেওয়ার জন্য। উত্তর মাঠের জমিটাতো তোমার পড়াশুনার জন্য বিক্রি করেছিলাম। শেষ সম্বল ছিল দক্ষিণ মাঠের জমিটা। তাই আমি রাজি হতাম না। কিন্তু তোমার মায়ের শরীর দিন দিন খারাপ হয়ে যাচ্ছিল। তাই তার শেষ ইচ্ছা পূরণ করার জন্য গতমাসে বিক্রি করে দিলাম জমিটা। পনেরো লাখ টাকা পেয়েছি জমিটা বিক্রি করে। তার ভিতর তিন হাজার টাকা দিয়ে ফ্যানটা কিনেছি। আর এক হাজার টাকা দিয়ে এই খেলনা গাড়িটা কিনেছি। বাকি টাকা এই পুটলিতে আছে। তুমি যখন ছোট ছিলে, তখন মাতবরের ছেলের এমন একটা গাড়ি ছিল । তুমি সারাক্ষণ তোমার মার সাথে ঘ্যান ঘ্যান করতে, এরকম একটা গাড়ির জন্য। তোমার মা খুব কষ্ট পেতো। সামর্থ্য ছিল না বলে, কিনে দিতে পারি নাই । যখনই তোমার মা তোমার জন্য খুব মন খারাপ করতো, তখনই বলতো, ছেলেডারে একটা খেলনা গাড়িও কিনে দিতে পারি নাই। গাড়িটা যেদিন কিনে আনি, সেদিন যদি তোমার মায়ের খুশিটা দেখতে বাবা ! খুব ইচ্ছা ছিল তার, এই টাকা কয়টা আর এই খেলনা গাড়িটা নিজ হাতে তোমারে দেবে। তোমারে অনেকবার খবরও পাঠাইছি, কিন্তু তোমার ব্যস্ততার জন্য তুমি আসতে পারো নাই। যাই হোক, তার আত্মা নিশ্চয়ই দেখতেছে।

মনে পড়লো, মা একবারই আমার বাড়িতে গেছে। মনে করেছিলাম, সাহায্য চাইতে পারে। তাই আগে থেকেই, ব্যবসায় লসের গল্প শুনিয়েছিলাম মাকে।

পৃথিবীটা কেমন যেন অর্থহীন লাগছে আমার কাছে । মাকে খুব দেখতে ইচ্ছা করছে আমার। কবর খুঁড়ে মাকে তো আর দেখতে পারবো না। আমি বাচ্চা ছেলেদের মত বাবাকে ধরে কাঁদছি। বাবা পরম স্নেহে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন আর বলছেন, " কাঁদে না বাবা। মা তো সবার চিরকাল বাঁচে না। "

সমাজ বলতে মূলত এমন এক ব্যবস্থা বোঝায়, যেখানে একাধিক চরিত্র একত্রে কিছু নিয়ম-কানুন প্রতিষ্ঠা করে একত্রে বসবাসের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলে। মা...


সমাজ বলতে মূলত এমন এক ব্যবস্থা বোঝায়, যেখানে একাধিক চরিত্র একত্রে কিছু নিয়ম-কানুন প্রতিষ্ঠা করে একত্রে বসবাসের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলে। মানুষের ক্ষেত্রে একাধিক ব্যক্তি একত্র হয়ে লিখিত কিংবা অলিখিত নিয়ম-কানুন তৈরি করে; এরকম একত্র বসবাসের অবস্থাকে সমাজ বলে।

যুগ যুগ ধরে সমাজ ব্যবস্থার অবনতির মূল কারিগর সুশীল আর রাজনৈতিক ক্ষমতা ওতঃপ্রোত ভাবে জড়িত বলে আফসোস এই সমাজের প্রতি

অবাক হলাম যখন ফার্মেসি থেকে‌ স্যানিটারি ন্যাপকিন এর বদলে মেয়েটি কনডম কিনলো!
আমি প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনে মেয়েটার পিছু নিলাম। কৌতূহল মেটাতে তাকে ডাক দিলাম।
"বোন শুনছেন?? "
"বলেন ভাই ?? "
"একটা ব্যক্তিগত প্রশ্ন করবো?"
মেয়েটা হেসে জবাব দিলো,
" আমি জানি আপনি কি জিজ্ঞাসা করবেন,
একটু লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে রইলাম,
মেয়েটা নিজের থেকেই বললো,
"আমার বাবা অথর্ব, সড়ক দুর্ঘটনায় দুটি পা হারিয়ে ঘরের এক কোণে পড়ে আছেন, মা টুকটাক সেলাই জানেন, কিন্তু তা দিয়ে কি সংসার চলে? ছোট দুটো ভাই বোন আছে, ওদের পড়ার খরচ, দৈনন্দিন জীবনের খরচ, অনেক ভেবে চিন্তে আমি চাকরি খুঁজতে থাকি, কোনোমতে অনার্সটা শেষ করি, একটা চাকরিও পেয়ে যাই, তবে সমস্যা হলো
অফিস থেকে বাড়ি ফিরতে বেশ রাত হয়ে যায়, সেদিন আমার এক কলিগ অফিস শেষে বাড়ি ফেরার পথে একদল জানোয়ারের কাছে ধর্ষিত হয়,😭  হতে পারে, সেই জানোয়ারদের পরবর্তী শিকার আমি😭
তাই, প্রটেকশন নিয়ে রাখছি সাথে, ওই যে বলে না? ধর্ষণ যখন সুনিশ্চিত তা উপভোগ করাই শ্রেয়?"

আমি বললাম,
"বোন দেশে আইন বলে কিছু আছে,
সে তড়িঘড়ি করে বলে উঠলো,
"ভাগ্যিস মনে করিয়ে দিলেন! বলতে ভুলে গেছিলাম, আমার কলিগ পুলিশের কাছেও গিয়েছিলো, শুনেছি, উনিও কুপ্রস্তাব দিয়ে বসেছেন😭  বাপ মরা মেয়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কথা ভেবে গলায় দড়িও দিতে পারছে না😭
আমি বাকরুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম,

মেয়েটি শান্ত গলায় বললো, "কখনো যদি আমার এরকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় তবে আমি উপভোগই করবো, কারন এই সুশীল সমাজ ধর্ষককে নয়, ধর্ষিতাকে অপরাধীর চোখে দেখে😭
আর আমি তো সমাজের নিয়ম অমান্য করে চলি, চাকরি করি, রাত করে বাড়ি ফিরি, এ জাতীয় মেয়েরাই ধর্ষণের শিকার হয়,এদের জন্য সমাজ ধর্ষককে দায়ী করবে না,আমার ওপর আমার মা- বাবার ভালো থাকা আর আমার ভাই-বোনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে আছে, আমাকে যে আরো অনেক দিন বাঁচতে হবে 😥😥 ভাই! ভালো থাকবেন,

লক্ষ্য করলাম মেয়েটার চোখের কোণায় জল চিকচিক করছে😥সে মলিন হেসে নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলো, আমি ঝাপসা চোখে তাঁকিয়ে রইলাম তার চলে যাওয়ার দিকে...
প্রশাসন এবং আইনের প্রতি দিন দিন মানুষের বিশ্বাস উঠে যাচ্ছে...দেশের প্রচলিত বিচার ব্যাবস্থা সব দিকে এমনি এখন! আফসোস এই সমাজের প্রতি।😭😭
সংগৃহীত