দেশ ও জাতির কল্যানে

জিজ্ঞাসা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ইহুদি মূলত একটি জাতি বা ধর্মীয় জনগোষ্ঠী যারা বনী - ইস্রায়েল জাতির অন্তর্গত এবং জাতিগতভাবে ইহুদি ধর্মের অনুসারী। ইব্রাহীমের...

ইহুদি মূলত একটি জাতি বা ধর্মীয় জনগোষ্ঠী যারা বনী-ইস্রায়েল জাতির অন্তর্গত এবং জাতিগতভাবে ইহুদি ধর্মের অনুসারী। ইব্রাহীমের পুত্র ইসহাক, তার পুত্র ইয়াকুব ওরফে ইসরাইল (ইস্রাঈল বা ইস্রায়েল) এর বংশধরগণ বনী ইসরাঈল নামে পরিচিত। ইয়াকুবের বারো পুত্রের নামে বনী-ইস্রায়েলের বারোটি গোষ্ঠীর জন্ম হয় যার মধ্যে ইয়াহুদা' ছেলেমেয়েরা ইহুদি নামে পরিচিত।

যদিও ধর্মের প্রবর্তক মুসা কিন্তু ইহুদিরা বলেন ধর্মের প্রবর্তক আব্রাহাম ইহুদি ধর্মের বয়স প্রায় ৪০০০ বছর। ইহুদীদের ধর্মযাজককেরাব্বি' (গুরু) বলা হয়।

কেন ইহুদিরা এত সফল

কেন ইহুদিরা এত সফল?

ইহুদি ধর্মের মূল শিক্ষা প্রায় সবসময়ই একেশ্বরবাদকে করে আবর্তিত হয়েছে। ইহুদিদের মধ্যে অনেক শ্রেণী-উপশ্রেণী থাকলেও এই একটি বিষয়ে কারও মধ্যে দ্বিমত নেই। সবাই এক বাক্যে কেবল এক ঈশ্বরকে মেনে নেয়। আমাদের বাংলাদেশে একটিও ইহুদি নেই। কিছু খ্রিষ্টান আছেন বটে, তবে সেটাও সংখ্যায় খুবই কম। কাজেই আমাদেরকে যখন কেউ বলে, "ইহুদি খ্রিষ্টানরা ষড়যন্ত্র করে আমাদের মুসলমানদের দাবিয়ে রেখেছে," সেই সাথে ওরা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে বাস্তবেই বিশ্বের নেতৃত্ব এখন ইহুদি-খ্রিষ্টানদের হাতেই।

এবং বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে সাত বিলিয়ন মানুষের পৃথিবীতে মাত্র চৌদ্দ মিলিয়ন ইহুদি, বিশ্বের আর অন্যান্য যেকোন জাতির তুলনায় যারা সংখ্যায় অতি নগন্য, অথচ তারাই এই দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে আছে। তারপরে আমরা দেখি আমাদের অতীতের ইতিহাস। এর ফলে কিছু চিন্তাভাবনা না করেই ধরে নেই, "হুজুর যা বলেছেন তাই সত্য, আমাদের এই দুরবস্থার পেছনে দায়ী শুধু ইহুদি নাসারা ষড়যন্ত্র!"

 ছোটবেলায় যখন করার কিছুই ছিল না তখন স্টারপ্লাসে একতা কাপুরের সিরিয়াল দেখতাম। তখন দেখতাম বিরানি খান্দান হোক কিংবা আগারওয়াল খান্দান কিংবা বাসু খান্দান - সব খান্দানকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে কেউ না কেউ লিপ্ত থাকতো। আমাদেরও ভাবখানা এমনই, যেন ইহুদি নাসারারা আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে করতেই নিজেদের দিন রাত কাটিয়ে দেয়। ওদের আর কোনই কাজ নেই। 

অথচ বাস্তবতা অতি সহজ সরল। তুলে ধরছি। যদি ভুল পান, তাহলে প্রমান করেন। যদিও আমি নিশ্চিত কোন ভুল পাবেন না। কারন আমি আউল ফাউল অসত্য বিষয় নিয়ে লেখালেখি করতে পছন্দ করি না।

প্রথমত, ইহুদিদের এই চরম সাফল্যের পেছনে তিনটি প্রধান কারন আছে। প্রথমটি, শিক্ষা। শিক্ষার ব্যাপারে ওরা আপোষহীন। তিনবছর বয়স থেকেই একটা ইহুদি শিশুকে ওদের আলিফ বা তা সা শেখানো শুরু হয়ে যায়। শেখানো হয় ইহুদি হালাকা (দ্বীনি শিক্ষা), ইহুদি ধর্মের আইন কানুন, ধর্মীয় নীতি ইত্যাদি। ওদের ধর্ম সম্পর্কে জানতে গেলে বিস্মিত হয়ে যাবেন ইসলামের সাথে মিল দেখে। একদিন ওদের কিছু আচার আচরণ রীতি নীতি নিয়ে আলাদা পোস্ট দিব। আপাতত ওদের সাফল্যের রহস্য ফাঁস করা যাক। তাওদের প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শুরুই হয় ধর্মীয় শিক্ষার মধ্য দিয়ে। একই সাথে চলে সাধারণ শিক্ষা। যে কারনে আমরা দেখতে পাই, জাতিগতভাবে ইহুদিদের একষট্টি ভাগেরও বেশি ছেলেমেয়ে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত। বিশ্বের অন্যান্য জাতির মধ্যে যে সংখ্যা মাত্র চৌদ্দভাগ বা তারও কম। উচ্চশিক্ষার (পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন) হারের দিক দিয়ে বিশ্বের সব জাতির তুলনায় মুসলিম এবং হিন্দুরাই সবচেয়ে নিচে অবস্থান করছে। এখন আপনারাই বলেন, এই জাতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার প্রয়োজন আছে? এই ধরণের উক্তি করা, এই ধরণের উক্তি বিশ্বাস করাটাইতো প্রমান করে আমাদের শিক্ষাদীক্ষার অবস্থা কতটা করুন। 

যাই হোক, ইহুদিদের "শিক্ষা" ইহুদিদের ধর্মেরই একটি অঙ্গ। ওদের শরিয়ার নিয়ম হচ্ছে, একজন পিতাকে অবশ্যই তাঁর পুত্রকে এমনভাবে শিক্ষিত করতে হবে যেন সে নিজের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করতে পারে। একে ওরা "ট্রেড" বলে, যার মানে "চাকরি/কাজ।" সেটা ডাক্তার বানাতে পারেন, বিজ্ঞানী বানাতে পারেন, ব্যবসায়ীও বানাতে পারেন। এটিই ওদের সফলতার দ্বিতীয় প্রধান কারন। যে যার জীবিকার ব্যপারে শৈশব থেকেই শিক্ষিত হয়ে গড়ে উঠে। 

এখন আমরা আমাদের দিকে একটু তাকাই। যেহেতু আমাদের তিন ধর্মেরই আল্লাহ/ঈশ্বর/গড এক, কাজেই নির্দেশও একই হবার কথা, নাকি? তা কুরআনের প্রথম নাযিলকৃত বাণীর মধ্য দিয়ে আল্লাহ সেই নির্দেশনাই দিয়েছেন। "পড়!" ভাল করে লক্ষ্য করুন, প্রথম নাযিলকৃত আয়াতগুলোর মধ্যে আল্লাহ দুইবার পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একটি, যা আল্লাহ শিখাবেন, মানে কুরআনের শিক্ষা। এবং দ্বিতীয়টি কলমের মাধ্যমে যে শিক্ষা প্রচার হয়েছে, মানে সাধারণ বিদ্যা। অতি সহজ সরল নির্দেশ। 

মুসলমান হয়ে জন্মালে অবশ্যই পড়ালেখা করতে হবে! কিন্তু না, তুই তারপরেও তোর প্রভুর নির্দেশ অমান্য করে পড়ালেখা বাদ দিয়ে মূর্খের কথা শুনে মেনে নিজেতো ডুবছি, সাথে গোটা জাতিকেও ডুবাচ্ছি। আমাদের মূর্খতা কোন পর্যায়ে গেছে সেটা সামান্য মুখ খুললেই বেরিয়ে আসে। "নীল আর্মস্ট্রং চাঁদে গিয়ে আজান শুনেছিলেন" "ঈমানদারদের করোনা হবেনা" "মাস্ক পরা লাগবে না" "করোনা টিকা নিলে ঈমান ধ্বংস হয়ে যাবে" ইত্যাদি ইত্যাদি যাবতীয় কথাবার্তা আমাদের তথাকথিত "আলেমদের" মুখ থেকেই বেরিয়েছে। 

আমাদের ধ্বংসের পেছনে ইহুদি নাসারা ষড়যন্ত্রের কিছু নেই। ওরা ওদের প্রভুর নির্দেশ মানছে, আমরা মানছি না, এই যা। ভাল করে লক্ষ্য করুন, মিথ্যা না বলা, ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা, বর্ণবাদবিরোধী কার্যক্রম, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ইত্যাদি ইত্যাদি সবই কুরআনের নির্দেশ। একই নির্দেশ তাওরাতেও আছে, বাইবেলেও আছে। এখন বিশ্বের দিকে চোখ ফেরান। কারা মানছে আর কারা মানছে না? "আমি মুসলিম" বললেই আমি মুসলমান হয়ে গেলাম? অন্যের দিকে দোষ চাপানোর আগে চিন্তা ভাবনা করতে থাকেন।

এখন আসা যাক ওদের সফলতার তৃতীয় শেষ কারনে। সেটি হচ্ছে ঐক্য, আর বিজনেসের ভাষায় বলতে হলে নেটওয়ার্কিং। দুই হাজার বছরের বেশি সময় ধরে ওদের কোন নিজস্ব দেশ নেই, গোটা বিশ্বেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেছে ওরা। তারপরেও এক ইহুদি আরেক ইহুদিকে ভাইয়ের মতন ভালবাসে। নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রেখেছে বছরের পর বছর। শতাব্দীর পর শতাব্দী। ওদের নেটওয়ার্ক এতটাই শক্তিশালী যে ইউরোপের ইহুদীর সাথে যোগাযোগ আছে আমেরিকান ইহুদীর, এবং সাউথ আমেরিকান ইহুদীর, এবং আরব ইহুদীর। এইটা ফেসবুক পূর্ববর্তী যুগের কথা। যখন যোগাযোগের মাধ্যম ছিল চিঠিপত্র। ওরা ঠিকই যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করেনি। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে কোন ইহুদি কোন নতুন দেশে গেলে ঠিকই খুঁজে অন্যান্য ইহুদিদের বের করে ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপন করে। ইহুদিরাই প্রথম জাতি যারা গ্লোবাল নেটওয়ার্কিং সৃষ্টি করেছে।

এখন দয়া করে একটু নিজেদের আল্লাহ এবং নবীর নির্দেশগুলির কথা স্মরণ করুন। বদরের এবং ওহুদের যুদ্ধে আল্লাহ হাতে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন একতাবদ্ধ থাকলে কি হয় এবং বিচ্ছিন্ন হলে কি হয়। তারপরেও আমাদের আক্কেল আসেনাই, আক্কেল এখনও আসেনা। ভবিষ্যতেও আসবে না।

ইহুদি ধর্মানুযায়ী, এক ইহুদি আরেক ইহুদীর দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত। যেকারনে পৃথিবীতে একটাও গৃহহীন বা ফকির ইহুদীর দেখা আপনি পাবেন না। ওরা ঠিকই একজন আরেকজনকে টেনে তুলে আনে। শুনেছি নিউইয়র্কে ইহুদিদের যাকাত নাকি এইভাবে দেয়া হয় যে সমস্ত কমিউনিটির যাকাত এক জায়গায় সংগ্রহ করা হয়। যে নিঃস্ব, যার যাকাতের প্রয়োজন হয়, তাঁকে বিরাট অংকের টাকা দিয়ে দেয়া হয়। এর ফলে রাতারাতি সে মিলিওনেয়ার হয়ে যায়, এবং পরের বছরেই সে নিজেই যাকাত দিয়ে অন্যকে উঠিয়ে দেয়। 

মুসলিমদেরও একই নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন। আমাদের দৌড় "যাকাতের কাপড়" হিসেবে সস্তা ফালতু ত্যানা বিলি করা পর্যন্তই। 

মুসলিমদের মতই ইহুদিদেরও সুদ খাওয়া হারাম। তবে ইহুদিরা সেই নিয়ম শুধু নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছে। এর মানে হচ্ছে, এক ইহুদি আরেক ইহুদিকে ঋণ দিলে সুদ নিতে পারবে না। ওরা কট্টরভাবে এই নিয়ম মেনে চলে। আর আমাদের অবস্থা? হাহাহা। ব্যাংকের কথা নাই বা বললাম। আপনি সুদ ছাড়া ঋণ দেন, আপন আত্মীয়কেই দেন। মেরে দিবে। সততা বলে একটা বস্তু যে আছে, সেটা আমরা জানিই না। আর আমরা দাবি করি সব ইহুদি নাসারা ষড়যন্ত্র

নেটওয়ার্কিং বিষয়ে ইহুদিদের বাস্তব উদাহরণ দেই। হলোকাস্টের পরে আমেরিকার নিউ জার্সিতে আশ্রয় নেয়া একদল ইহুদিকে তাঁদের কমিউনিটির নেতা (রেবাই) ঘোষণা/নির্দেশ দেন প্রতিটা পরিবার যেন আলাদা আলাদা জীবিকা বেছে নেন। ফলে কেউ নাপিত হয়ে গেলেন, কেউ হলেন মুচি, কেউ ডাক্তার, কেউ দোকানদার, কেউ বাবুর্চি। এবং ওরা নিজেরাই নিজেদের ব্যবসায়ে একেকজন কাস্টমার হয়ে গেলেন। একে অন্যের উপর নির্ভরশীল, এবং কেউই অন্য কোথাও যান না। আমি যদি ইহুদি একাউন্ট্যান্ট হই, তবে একাউন্টিং সম্পর্কিত যাবতীয় সমস্যা নিয়ে অন্যান্য ইহুদিরা আমার কাছেই আসবেন, এবং আমি অসুস্থ হলে কেবল ইহুদি ডাক্তারের কাছেই যাব, খেতে হলে কেবল ইহুদি রেস্টুরেন্টেই যাব, এবং চুল কাটতে হলে ইহুদি সেলুনে। সেই সাথে বাইরের কাস্টমারতো আছেই। এর ফলে যা ঘটছে তা হচ্ছে, বাইরের কমিউনিটি থেকে ইহুদিদের কাছে টাকা আসছে ঠিকই, কিন্তু ওদের কমিউনিটি থেকে সেই টাকা সহজে বেরুচ্ছে না। এবং মাত্র কয়েক বছরেই এই কমিউনিটি ধনী হয়ে গেল। একই ঘটনা গোটা বিশ্বজুড়ে যেখানে যেখানে ইহুদি আছে, সব জায়গাতেই ঘটছে। 

আর আমাদের অবস্থা? বাঙালি দোকানে পেঁয়াজের দাম পাউন্ডে দশ পয়সা বেশি, আমরা চলে যাই ইন্ডিয়ান দোকানে। আর পহেলা বৈশাখ বা অন্যান্য যেকোন প্রোগ্রামে স্পন্সর প্রয়োজন হলে এই বাঙালি ব্যবসায়ীদের কাছেই গিয়ে নির্লজ্জের মতন হাত পাতি। ইন্ডিয়ানরা স্বাভাবিকভাবেই আমাদের বৈশাখ টইশাখ বা অন্য কোন অনুষ্ঠানেই পয়সা খরচের আগ্রহ দেখায় না। আর ওরা ওদের বাজার ওদের দোকান ছাড়া করেও না। ফলে আমাদের পয়সা ওদের পকেটে যাচ্ছে ঠিকই, আমাদের কাছে আসছে না। আমাদের কমিউনিটির পয়সা আমাদের মাঝে না রেখে আমরা ইন্ডিয়ান, চাইনিজ, আমেরিকানদের দিয়ে দিচ্ছি। বাঙালি বাদ দিয়ে মুসলিমদের কথা চিন্তা করলেও ঘটনা একই ঘটছে। ইসমাইলি (আগাখানি) কমিউনিটি ছাড়া আর কোন মুসলিমদের মাঝেই এই ঐক্য দেখা যায় না। যে কারনে ইসমাইলিদের সবসময়েই দেখবেন ধনী, পয়সাওয়ালা। ফকির মিসকিন যা পাবেন সবই "সুন্নি" মুসলমান। আর আমরা আউরাই "ষড়যন্ত্র থিওরি!" 

তাহলে এখন বুঝলেনতো, কেন ইহুদিরা এত সফল? . শিক্ষা . চাকরি/কাজ এবং . ঐক্য। সেই সাথে ওরা ওদের ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলে। কাউকে ঠকায় না, কাস্টমারকে খাসির মাংস বলে কুকুরের মাংস খাওয়ায় না, ঈদের সময়ে বখশিশের নামে জোর করে টাকা আদায় করেনা, ঘুষ দুর্নীতি করেনা, ভাংতি পাঁচ টাকার বদলে লজেন্স ধরিয়ে দেয়না। এই বিষয়গুলোতে ফোকাস করুন, আপনিও সফল হবেন।

১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস বাংলাদেশে বিশেষ দিন হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে দেশের সর্বত্র পালন করা হয়। প্রতি বছর ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশে দিনটি বিশেষভাব...

আজো পরাধীনতার শিকলে বাঁধা আমার স্বাধীনতা

১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস বাংলাদেশে বিশেষ দিন হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে দেশের সর্বত্র পালন করা হয়। প্রতি বছর ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশে দিনটি বিশেষভাবে পালিত হয়। ১৯৭২ সালের ২২জানুয়ারি প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে এই দিনটিকে বাংলাদেশে জাতীয় দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয় এবং সরকারীভাবে এ দিনটিতে ছুটি ঘোষণা করা হয়।

১৬ই ডিসেম্বর বাঙ্গালী জাতির জন্য বাংলাদেশ নামক একটি অপরিপূর্ন্য ভূখণ্ডের বিজয় দিবস।জাতিসংঘের অধিকাংশ সদস্যরাষ্ট্র ১৯৭২ সালের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

★ বাংলার স্বাধীনতা ডুবেছিল ২৩ জুন ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে । সেদিন রবার্ট ক্লাইভ এর নেতৃত্বে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার শাসনভার দখল  করে বাঙ্গালী জাতির পায়ে ১৯০ বছরের জন্য শিকল পড়ানো হলো।

★ সময়ের পরিক্রমায় বারবার দখলদার বৃটিশ বিরোধী  আন্দোলন আর মুসলিম বিরোধী রক্ত পিপাসু হিন্দুদের (সনাতন ধর্মাবলম্বী) এবং নাস্তিক এর সাথে ত্রিমুখী আন্দোলন এর ফলে ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই এলো নামমাত্র স্বাধীনতা যার আড়ালে দ্বি-ভক্ত  বাঙ্গালীর একটি অংশকে ইসলামাবাদ থেকে নিয়ে আসা সবুজ আর নক্ষত্র চাদ খচিত শিকল পড়ানো হলো । আর অপর অংশকে দিল্লি থেকে আনা গেরুয়া সাদা সবুজ রঙের চাকা খচিত শিকল পড়ানো হলো।

★ টানা ২০ বছর ধরে সবুজ রঙের মধ্যে  নক্ষত্র চাদ খচিত শিকল পড়ে বাঙালি মুসলিম জাতিগত নিপীড়ন আর বৈষম্য শিকার হলে ভারতীয় স্বার্থবাদী রাজনৈতিক হীন কৌশলীরা স্বাধীনতাকামী  বাঙ্গালীদের পায়ে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের  একটি আত্মসমর্পণের দলিল "INSTRUMENT OF SURRENDER" এর মাধ্যমে আধুনিক মোড়কে মোড়ানো  ভারতীয় শিকল বাঙ্গালী সদিচ্ছায় পড়ানো হয়।  

★  যখন আন্তর্জাতিক গনমধ্যমে প্রচার হয় ১৯৭১ সালের পাক ভারত যুদ্ধ বাংলাদেশ আর শুধুমাত্র  বাংলাদেশের গণমাধ্যমে বলে পাক বাংলা মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ বিজয়,  তখন প্রশ্ন হয় তাহলে মুক্তিযুদ্ধ বলে কিছু ছিল কি? যখন ভারত এই দিনে পালন করে যুদ্ধ বিজয় দিবস। 

★ প্রশ্ন হয় ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালের  একটি আত্মসমর্পণের দলিল "INSTRUMENT OF SURRENDER" এটার মূল কপি কি বাংলাদেশের কাছে নাকি ভারতের কাছে?  

★ ঐ দলিলে কি " পাক ভারত " নাকি "মুক্তিযুদ্ধ"  কোন শব্দ লেখা?  কাদের কাছে আত্মসমর্পন করা হয়েছিল। 

★ প্রশ্ন হয় দেশের যুদ্ধের সময় আমাদের বীর বাঙ্গালী নেতাদের কাছে কেন আত্মসমর্পন হলো না?  কেন সেদিন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী, আত্মসমর্পণের দলিলে জেনারেল জগজিত সিং অরোরার সামনে সই করছেন?  ★ তাহলে কি এ ভূমি সেদিন পাকিস্তান ভারতের কাছে বিক্রি করলে বাঙালীরা ভাড়া নিয়ে বাংলাদেশ তৈরী করলো?

★ বাংলাদেশের সংবিধান গঠন পদ্ধতি যুক্তরাজ্য পদ্ধতি  তে করার আদেশ কেন সেদিন ইন্দিরা গান্ধী দিলেন?  যুক্তরাষ্ট্রীয় পদ্ধতিতে হলে সমস্যা কি ছিল?  

সুতরাং বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা আর পূর্বাপর বিষয়  সব মিলেয়ে একটা প্রশ্ন হয় সত্যি কি আজো আমার বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করতে পেড়েছিল নাকি আমরা পরাধীন ?

বাংলাদেশে ব্যাংকে ? তার নির্বাহী পরিচালকের নাম শুভঙ্কর সাহা। পর্যটন কর্পোরেশনে যাবেন, তার চেয়্যারম্যান অপরূপ চৌধুরী। ‘একটি বাড়ি একটি খ...


  • বাংলাদেশে ব্যাংকে ? তার নির্বাহী পরিচালকের নাম শুভঙ্কর সাহা।
  • পর্যটন কর্পোরেশনে যাবেন, তার চেয়্যারম্যান অপরূপ চৌধুরী।
  • ‘একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে যাবেন, তার পরিচালক প্রশান্ত কুমার রায়,
  • স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে যাবেন, তারও চেয়ারম্যান তপন কুমার চক্রবর্তী।
  • পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন (ডিপিডিসি) যাবেন, সেখানেও চেয়ারম্যান তাপস কুমার।
  • জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যাদুঘরে যাবেন, তার মহাপরিচালক স্বপন কুমার রায়,
  • পাবলিক লাইব্রেরী যাবেন, তারও মহাপরিচালক আশীষ কুমার সরকার।
  • পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে যাবেন, তারও চেয়ারম্যান নারায়ন চন্দ্র সাহা।
  • প্রেস কাউন্সিলে যাবেন, তার প্রধানও শ্যামল চন্দ্র কর্মকার।
সর্বত্রই এখন হিন্দুদের দাপট। বেছে বেছে সব উপরের পদগুলোতে বসানো হয়েছে হিন্দুদের। মুসলমানদেরকে করা হয়েছে হিন্দুদের অধিনস্ত। হিন্দু বস যা বলে, ‍অধিনস্ত মুসলিমদের তাই মুখ বুজে মেনে নিতে হয়। তবে শুধু বস হিসেবে নয়, হিন্দু হওয়ার কারণে তাদের থাকে আলাদা দাপট, বিষয়টা এমন- তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধেও কিছু বলা যায় না। হিন্দুদের দ্বারা মুসলিম কর্মকর্তারা এখন পুরোপুরি কোনঠাসা এবং নির্যাতিত। সবাই বুঝতেছে, কিন্তু কিছুই যেন করার নেই।

আমাদের ভাই {আবরার ফাহাদের) হত্যাকারি অনিক সরকার কোন ধর্মের?

নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সর্বাধিক প্রচারিত বাংলা সাপ্তাহিকী ‘ঠিকানা’ ৩ জানুয়ারি (২০১৪) সংখ্যায় এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। ‘এক নজরে বাংলাদেশের সচিবালয় " হারিয়ে যাচ্ছে ইসলাম-মোহাম্মদরা, বাড়ছে রায়-বাবুদের আধিপত্য’ শীর্ষক প্রতিবেদনের সূচনাতেই বলা হয়, ‘সচিবালয়ে ঢুকে আপনি কনফিউজড বা বিভ্রান্ত হবেন না দয়া করে। হয়তো ভাবতে পারেন, কোথায় আসলাম?

ঢাকা নাকি দিল্লির সিভিল সার্ভিস পাড়া এটা ! ৯৫ শতাংশ মুসলমানের দেশে সিভিল সার্ভিসে হিন্দু সম্প্রদায়ের আমলাদের আধিক্য দেখে আপনি অবাক হতেই পারেন। সাইনে লেখা রয়েছে অমুক বোস বা অমুক রায়, কোনোটায় অমুক দত্ত, আবার কোনোটায় অমুক বিশ্বাস। এসব নেম সাইনের ভিড়ে হারিয়ে গেছে মোহাম্মদ বা ইসলাম নামের নেম সাইন।

সচিবালয়ে এখন নাকি মুখে কথা হয় না, ভাব বিনিময় হয় ইশারায়। হিন্দু অফিসারদের দাপটে মুসলমানরা রয়েছেন কোণঠাসা অবস্থায়। চাকরি আছে কিন্তু চেয়ার টেবিল নাই, মুসলমান এমন কর্মকর্তার সংখ্যা সচিবালয়ে এতই বেড়েছে যে, লাইব্রেরিতে বা ক্যান্টিনেও এখন আর বসে সময় কাটানোর জায়গা নেই।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে কয়েকজন অফিসার বললেন, বর্তমান সরকারের শুরু থেকেই একটি চক্র তালিকাহাতে এ কাজটি করে আসছে। চিহ্নিত হিন্দু অফিসারদের গুরুত্বপূর্ণ কোথায় কোথায় বসাবে, তা আগে থেকেই নির্ধারিত। এমনকি কয়েকপদ ডিঙ্গিয়ে প্রমোশন দেয়া হিন্দু ওই কর্মকর্তাদের।

ওএসডি থাকা একজন অতিরিক্ত সচিব বললেন, শুধু সচিবালয়েই নয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বিচারালয়, টেলিকমিউনিকেশন সেক্টর, পুলিশ-প্রশাসন, জেলা-উপজেলা প্রশাসনসহ সর্বত্র এখন দাপটে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন হিন্দু কর্মকর্তারা।

তিনি জানালেন, এখন অনেকেই বলে থাকেন, খুব বেশি দূরে নয়, হয়তো দেখা যাবে পাকিস্তান আমলে ‘পাঞ্জাবি খেদাও’ অভিযানের মতো বাংলাদেশেও এ ধরনের কোনো অভিযান শুরু হয়ে যাবে।

আমার দৃষ্টিতে, বর্তমান সময়টা ঠিক ব্রিটিশ আমলের মত। ব্রিটিশ পিরিয়ডের শুরুতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নিজেদের প্রাধান্য বিস্তারের জন্য সকল মুসলিম কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সরিয়ে শুধু হিন্দুদের নিয়োগ করেছিলো।
বর্তমান আওয়ামী সরকার যেভাবে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে ( শেখ হাসিনার উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বলেছে- - চাকুরীতে হিন্দুদের তুলনামূলক বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে) হিন্দুদের হাতে দেশ তুলে দিচ্ছে, তা দেখে মনে হচ্ছে নতুন করে পরাধীনতার শিকল এমনভাবে ঘিরে আছে, ধরছে বাংলাদেশকে তা থেকে বের হতে কত যুগ পেরিয়ে যায় !!!

https://www.facebook.com/sharminonline/posts/616299592402963

করোনার পুঁথি- নকুল কুমার বিশ্বাস  কোথায় গেলো মন্ত্রতন্ত্র আরে কোথায় গেল মন্ত্র তন্ত্র , কোথায় গেল  টিয়ের দল, কোথায় গেল তাবিজ কবজ পাথরে...

মন্ত্রতন্ত্র

করোনার পুঁথি- নকুল কুমার বিশ্বাস 

কোথায় গেলো মন্ত্রতন্ত্র


আরে কোথায় গেল মন্ত্র তন্ত্র , কোথায় গেল  টিয়ের দল,
কোথায় গেল তাবিজ কবজ পাথরের আশ্চার্য  ফল?

যারা পাথরের বিজ্ঞাপন করতো তাদের কাছে প্রশ্ন আজ,
মুখদেখে কোরোনার কথা কৈছিলোনি জ্যোতিষরাজ ?

জোতিষ বাস্করের কাজে আজ প্রশ্নকরী কাতরে,
করোনার মৃত্যু থামবে বলেদেন কোন পাথরে?

কোথায়গেলো জোতিষ সম্রাট স্বর্ণপদক খ্যাতিমান,
কেউতো দিতে আসলোনা ভাই একটা হাচির সমাধান?

কোথায়গেলো বশীকরণ কালা জাদুর খেলাটা,
কোথায়গেলো নজর বন্দির ফন্দি আটার চেলাটা?

কোথায়গেলো চালা পড়া তালা পড়া সাধুরা,
অলৈকিক ক্ষমতা লইয়া কোই লুকাইলো সাধুরা?

কোথায়গেলো বাবারা সব তাদের চরণ ধরোনা,
লাথি দিয়া দেক উড়াইয়া মরণব্যাধি করোনা ?

সদ্ধ প্রাপ্ত বড়ি গুলা তুলা আছে কার্শিকাই,
দেশের জন্য রাইখা কিছু বিক্রি করো আমেরিকায়।

কোথায় গেল ইন্দ্রজালের অলৌকিক কেরামতি,
কোথায় গেল জিনের বাদশার সমস্যার মেরামতি?

করোনা সমস্যার সমাধান দিতে তোমরা সবাই হও রাজি,
তানাহলে স্বীকার করো সব ছিলো ধান্দাবাজি। 

দেশের সাধারণ মানুষের চিরদিন সরল বিশ্বাসে,
বিশ্বাস নিয়ে করছো ব্যবসা করোনা তা করলো ফাঁস।

যারা নির্বাচনে জনগণের সেবা করার সুযোগ চাই,
তাদের নারায়ণগঞ্জে দেন পাঠাইয়া সেবার কিন্তু সুযোগ যায়।

দেশের জন্য জীবন দিব যে বলে জনসভায়,
সে কেন যেতে চাইনা করোনার লাশের জানাজায় ?

করোনা হয়তো থাকবেনা একটু করো প্রতীক্ষা,
তবে মনে রেখো করোনা দিলো আমাদের সেই শিক্ষা।

সকাল সাজে বাজে কাজে না করে সময় খরচা,
স্রষ্টাতে ভরসা রেখে করো বিজ্ঞানের চর্চা। 

কোরোনার বীরযোদ্ধা স্বাস্থ্য কর্মী বোন আর ভাই,
সেনা বাহিনী পুলিশ বাহিনী কে সেল্যুট জানাই।

সালাম জানাই যুদ্ধে যারা মাঠে আছেন অনিবেশ,
তোমরা আছো বলে বেঁচে যাবে আমার বাংলাদেশ।

জনাব শাফি উদ্দিন নজিম উদ্দিন করোনার শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা,
কোরোনার পুঁথি শেষ করলাম তাদের জানিয়ে শ্রদ্ধা।